৫ পৌষ ১৪২৫ 19 December 2018

ইইএফউইং

ইইএফ সহায়তা প্রদানে লিয়েন ব্যাংক ব্যতিত আইসিবির সক্ষমতা

ভূমিকা

ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সম্ভাবনাময় খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং সফটওয়্যার শিল্প প্রকল্পে বিনিয়োগ উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে ২০০০-২০০১ অর্থ বছরে ১০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে কৃষি ও আইসিটি খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইক্যুইটি এন্ড অন্ট্র্যাপ্র্যানারশীপ ফান্ড (ইইএফ) গঠন করা হয়। এ লক্ষ্যে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ২৬/১২/২০০০ তারিখে স্বাক্ষরিত এজেন্সী চুক্তির সূত্রে এ তহবিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর অর্পিত হয়।
ইইএফ এর অপারেশনাল কার্যক্রম সম্পাদনের নিমিত্তে ০১/০৬/২০০৯ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবি’র মধ্যে একটি সাব-এজেন্সী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির আওতায় নীতিমালা প্রণয়ন, তহবিল ব্যবস্থাপনা ও পারফরমেন্স মনিটরিং সংক্রান্ত কার্যক্রম, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ও অন্যান্য অপারেশনাল কার্যক্রম আইসিবি কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

ইইএফ শুরু হতে মে ২০১৭ অর্থায়নের সাবির্ক চিত্র নিম্নরূপঃ

ইইএফ খাতে সরকার কর্তৃক ছাড়কৃত অর্থের পরিমাণ ২০২৫.০০ কোটি টাকা।
৩১ শে মে ২০১৭ পর্যন্ত ইইএফ এর আওতায় মঞ্জুরীকৃত ও বিতরণকৃত ও অর্থ আদায় সংক্রান্ত প্রকল্পের বিবরণঃ

মঞ্জুরীকৃত প্রকল্পের বিবরণঃ (৩১ শে মে ২০১৭ পর্যন্ত) (কোটি টাকায়)

প্রকল্পের ধরণ০১ বাংলাদেশ ব্যাংক(২০০১-২০০৯) আইসিবি(২০০৯-২০১৭) সর্বমোট মঞ্জুরীকৃত প্রকল্পের অবস্থা
প্রকল্প সংখ্যা অর্থের পরিমাণ প্রকল্প সংখ্যা অর্থের পরিমাণ প্রকল্প সংখ্যা অর্থের পরিমাণ
কৃষি ২১৬ ৫৭০.০৩ ১৭০৭ ২৮৮৭.৬৩ ১,৯২৩ ৩,৪৫৭.৬৬
আইটি ৩৪ ৫৮.৪১ ১০৩ ১৫২.৯৫ ১৩৬ ২১১.৩৬
মোট ২৫০ ৬২৮.৪৪ ১৮১০ ৩০৪০.৫৭ ২০৫৯ ৩৬৬৯.০২

বিতরণের বিবরণঃ (৩১ মে ২০১৭ পর্যন্ত) (কোটি টাকায়)

প্রকল্পের ধরণ০১ বাংলাদেশ ব্যাংক(২০০১-২০০৯) আইসিবি(২০০৯-২০১৭) সর্বমোট মঞ্জুরীকৃত প্রকল্পের অবস্থা
প্রকল্প সংখ্যা অর্থের পরিমাণ প্রকল্প সংখ্যা অর্থের পরিমাণ প্রকল্প সংখ্যা অর্থের পরিমাণ
কৃষি ২০০ ৪৭৩.৮৭ ৬৩৯ ৮৪১.৫৭ ৮৩৯ ১৩১৫.৪৪
আইটি ৩২ ৪৪.৭৫ ৫৯ ৬৪.৫৮ ৯১ ১০৯.৩৩
মোট ২৩২ ৫১৮.৬২ ৬৯8 ৯০৬.১৫ ৯৩০ ১৪২৪.৭৭

ইইএফ বাস্তবায়নকারী সংস্থাসমুহ/পক্ষসমুহ ও তাদের দায়দায়িত্ব:

বাংলাদেশ ব্যাংকঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সম্পাদিত এজেন্সি এগ্রিমেন্ট মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ইউনিট সূচনালগ্ন থেকে ৩১ মে, ২০০৮ পর্যন্ত এতদ্সংশ্লিষ্ট সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের এজেন্ট হিসেবে ফান্ড ব্যবস্থাপনা, পারফরমেন্স মনিটরিং এবং নীতিমালা প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে;

আইসিবিঃ
পরবর্তীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইইএফ এর ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ ব্যাংক এর নিকট হতে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর নিকট হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উক্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গত ০১ জুন, ২০০৯ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইসিবির মধ্যে ১০ (দশ) বছর মেয়াদী একটি সাব-এজেন্সি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ীইইএফএর তহবিল ব্যবস্থাপনা, নীতিমালা প্রণয়ন ও পারফরম্যান্স মনিটরিং ব্যতিরেকে ইইএফ আইটি এবং কৃষি খাতের অন্যান্য সকল অপারেশানাল কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনাআইসিবি’র উপর ন্যস্ত হয়। এ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য আইসিবি’তে ইইএফ উইং নামে একটি স্বতন্ত্র উইং প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাব এজেন্ট হিসেবেবাংলাদেশ ব্যাংক এর পরামর্শ ও সহায়তায় EOI (Expression of Interest) Short-list ভুক্তকরণ, প্রকল্প প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই, প্রকল্প মঞ্জুরী,মঞ্জুরীকৃত প্রকল্পে অর্থ ছাড়করণ, ছাড়কৃত অর্থের বিনিয়োগ পর্যবেক্ষণ,শেয়ার বাই-ব্যাক সম্পর্কিত যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এছাড়া আইসিবির শাখাসমূহে ইইএফ সেল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকল্প সমূহে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

লিয়েন ব্যাংকঃ
লিয়েন ব্যংক বলতে সেই সকল তালিকাভুক্ত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ব্যতীত) কে বুঝায় যেগুলো নির্ধারিত ফি এর বিনিময়ে ইইএফ সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনকারী কোম্পানির প্রকল্পসমূহ মূল্যায়ন করে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সাথে ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট সম্পাদন করে। ইইএফ সহায়তা প্রদানে শুরু থেকেই ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লিয়েন ব্যাংকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনী সীমাবদ্ধতার কারণে ও ইইএফ এর অর্থ প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে লিয়েন ব্যাংক কে ইইএফ সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়ার অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছিল।

লিয়েন ব্যাংক সৃষ্টি ও বাংলাদেশ ব্যাংক এর সার্কুলার
আইসিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে সকল উদ্যোক্তা ইইএফ হতে সমমূলধন সহায়তা গ্রহণের পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য অন্য ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে মেয়াদী ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে আগ্রহী সে সকল ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা কর্তৃক ঋন প্রদানে ইচ্ছুক ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে। দাখিলকৃত প্রকল্প প্রস্তাবনা ইইএফ নীতিমালার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকল্প প্রস্তাবনা মূল্যায়নের জন্য পেশাগত দক্ষতা সম্পন্ন ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিষয়ে অভিঞ্চতাসম্পন্ন বিশেষঞ্চ সমন্বয়ে কমপক্ষে তিন সদস্য বিশিষ্ট প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটি ইইএফ নীতিমালার সাথে সঙ্গতি রেখে প্রকল্প প্রস্তাবনা আইসিবিতে প্রেরণ করবে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বিশেষঞ্চ কমিটির সকল সদস্যের স্বাক্সর থাকতে হবে। ইইএফ সহায়তা প্রদান করা বাব না করার বিষয়ে মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সুষ্পষ্ট মতামত থাকতে হবে।

উল্লেখ্য যে, ইইএফ সার্কুলার নং-২৮, তারিখঃ ০৪/১২/২০০৮ অনুসারে ব্যাংক ঋণসহ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিভিত্তিক কোন প্রকল্প প্রস্তাবনা বিবেচনাযোগ্য নয়।
যে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাগণ ব্যাংক ঋণ সুবিধা গ্রহণ ব্যতিরেকে কেবলমাত্র ইইএফ সহায়তা গ্রহণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চান সে ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাগণকে তাদের পছন্দের যে কোন তফসিলী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প প্রস্তাবনা দাখিল করতে হবে। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান উপরোক্ত নিয়মে প্রকল্প প্রস্তাবনা মূল্যায়ন করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন আইসিবিতে প্রেরন করবে। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব প্রচলিত নিয়মানুযায়ী প্রকল্প মূল্যায়ন বা পরীক্ষণ ফি ধার্য করবে।

ইইএফ সহায়তার অর্থ ছাড়করণের পূর্বে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্প কোম্পানী আইসিবি কর্তৃক সরবরাহকৃত নমুনা মোতাবেক বিনিয়োগ চুক্তিতে (ঐশৎনড়ঢ়লনশঢ় অফক্ষননলনশঢ়) আবদ্ধ হবে (তিন কপি) যার একটি কপি আইসিবিশর ইইএফ ডিভিশনে, একটি কপি প্রকল্প প্রতিষ্ঠানে এবং একটি কপি আইসিবিশর ইইএফ ডিভিশনে, একটি কপি প্রকল্প প্রতিষ্ঠানে এবং একটি কপি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে তার আইন পরামর্শকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দলিলাদি সম্পাদন করবে।

উদ্যোক্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে উদ্যোক্তার অনুকূলে ইইএফ সহায়তার ১ম কিস্তির অর্থ ছাড়ের সুপারিশ করার পূর্বে ইইএফ সার্কুলার নং-১৫ এবং ২নং অনুচ্ছেদের আলোকে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পে উদ্যোক্তার এক্যুইটির সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ হওয়ার বিষয়টি সরেজমিনে প্রকল্প পরিদর্শন পূর্বক নিশ্চিত হতে হবে। এরূপ নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তার অনুকূলে ইইএফ সহায়তার ১ম কিস্তির অর্থ ছাড়ের জন্য আইসিবিশর নিকট সুপারিশ করবে। পরবর্তী কিস্তিসমূহের অর্থ ছাড়ের পূর্বে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকল্পসমূহ পরিদর্শনের প্রয়োজন নেই। এক্ষেত্রে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তার অর্থ ছাড়ের আবেদনপত্র আইসিবিশর নিকট প্রেরণ করবে। উক্ত ২নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কিস্তিভিত্তিক ইইএফ সহায়তার অর্থ সরাসরি উদ্যোক্তাকে প্রদানের উদ্দেশ্যে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রেরণ করতে হবে।

সমমূলধন সহায়তা ভোগকালীন সময়ে কোম্পানীর পর্ষদ সভায়, বিশেষ সাধারণ সভায় এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইসিবি এর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে। প্রতিনিধি মনোনয়নের দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পর্ষদ সভায় উপস্থিত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিনিধিকে ব্যক্তিগত নামে কোম্পানীর শেয়ার ধারণ করতে হবে না এবং কোম্পানীর দায়দেনা পরিশোধে তাঁকে কোন গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে না অথবা কোম্পানীর খেলাপী দায়দেনার জন্য তাঁকে ঋণখেলাপী গণ্য করা হবে না। কোম্পানীর মেমোন্ডোম এন্ড আর্টিকেল্স অব এসোসিয়েশনে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান রাখতে হবে। কোম্পানীর আর্টিকেল্স অব এসোসিয়েশনের কোন বিধানের পরিপন্থি পরিলক্ষিত হলেও ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোননীত প্রতিনিধির উপস্থিতি ব্যতিরেকে কোম্পানীর পর্ষদে অথবা শেয়ারহোল্ডারদের সভার কোরাম পূর্ণ হবে না। কোম্পানীকে প্রতি ত্রৈমাসিকে নূন্যতম একটি পর্ষদ সভা করতে হবে। ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মনোনীত পর্ষদ সদস্য উক্ত কোম্পানী কর্তৃক ইইএফ নীতিমালার পরিপন্থি কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ কোম্পানীর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতি ত্রৈমাসিকান্তে এদ্বিষয়ে ইইএফ ডিভিশন, আইসিবিতে প্রতিবেদন পেশ করবেন।

সহায়তা মঞ্জুরকালে নির্ধারিত প্রাক্কলিত ব্যয়ের অতিরিক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় কোম্পানীর উদ্যোক্তাগণকে বহন করতে হবে। ইইএফ ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংক/ইইএফ ডিভিশন, আইসিবি বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিদর্শনের লক্ষ্যে কোম্পানীকে হিসাব বহিসমূহ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রকল্প সংক্রান্ত সকল তথ্য সরবরাহে কোম্পানী বাধ্য থাকবে। কোম্পানীকে প্রতি ত্রৈমাসিকান্তে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রতিবেদন (নির্ধারিত ছকে) এবং বৎসরান্তে পরবর্তী ৪ মাসের মধ্যে কোম্পানীর নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র ও লাভ-ক্ষতি হিসাব সরাসরি আইসিবিতে দাখিল করতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্দেশিত হলে উক্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন, নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র ও লাভ-ক্ষতি হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ ইউনিটেও দাখিল করতে হবে।

মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান শেয়ার বাই-ব্যাক সংক্রান্ত ষিয়সমূহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইসিবিশর নিকট প্রেরণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক/আইসিবিশর নির্দেশের সূত্রে মূল্যায়নকারী ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিশেষ কোন দায়িত্ব পালন করবে।

এ যাবৎ জারীকৃত ইইএফ সার্কুলারে বর্ণিত অন্যান্য সকল শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।

লিয়েন ব্যাংকের কার্যবলি:
লিয়েন ব্যাংক বা মূল্যানকারী প্রতিষ্ঠান ইইএফ সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনকারী কোম্পানির প্রকল্পসমূহ মূল্যায়ন করে থাকে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সাথে ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট সম্পাদন করে। লিয়েন ব্যাংকের কাজ সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

প্রকল্প প্রস্তাবনা গ্রহণ, প্রকল্প মূল্যায়ন ও পরিদর্শন:
ইইএফ উইং, আইসিবি কর্তৃক সরবরাহকৃত নমুনা অনুযায়ী উদ্যোক্তাকে নিজ উদ্যোগে একটি Project Profile প্রস্তুতকরতঃ লিয়েন ব্যাংকএর মাধ্যমে প্রকল্প মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি লিয়েন ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করে। লিয়েন ব্যাংকপ্রকল্পস্থল সরেজমিন পরিদর্শনপূর্বক জমির প্রকৃতি, উপযোগিতা ও বাজার মূল্য যাচাইঅন্তে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন প্রতিবেদনসহ প্রকল্প প্রস্তাবনা ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনইইএফ উইং, আইসিবিতে প্রেরণ করে যা ইইএফ উইং, আইসিবিকর্তৃক আর্থিক বিশ্লেষণসহ পুনঃমূল্যায়ন করা হয়।

বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদন
ইইএফ সার্কুলার নং ১৪/২০০৩ অনুসারে কোম্পানি ও লিয়েন ব্যাংক এর মধ্যে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের উপর নির্ধারিত ফরম্যাট অনুযায়ী হুবহু ৩ (তিন) কপি ইনভেস্টমেন্ট এগ্রিমেন্ট সম্পাদন করে, যার ১(এক) কপি ইইএফ উইং, আইসিবি ও ১(এক) কপি লিয়েন ব্যাংক সংরক্ষণ করে এবং ১ (এক) কপি কোম্পানির নিকট সংরক্ষিত থাকে।

ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি প্রেরণ:
প্রকল্পভূমির মালিকানা কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে নামজারী সম্পন্ন করতে হয়। প্রস্তাবিত কোম্পানি জমির মূল দলিল, নামজারীর কাগজপত্র, পর্চা, ডিসিআর, খাজনার রশিদ ইত্যাদির সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে লিয়েন ব্যাংকএর মাধ্যমে ইইএফ উইং, আইসিবিতে প্রেরণ করা হয়,যার ফটোকপি লিয়েন ব্যাংকেও সংরক্ষিতথাকে।

উদ্যোক্তার ইক্যুইটির বিনিয়োগ পর্যালোচনা করে প্রকল্প পরিদর্শনের অনুরোধ
মঞ্জুরীপত্র ইস্যুর তারিখ হতে ১ (এক) বছরের মধ্যে উদ্যোক্তার ইক্যুইটির সম্পূর্ণ অংশ বিনিয়োগ ও অন্যান্য শর্তাদি পরিপালন শেষে ইইএফ সহায়তা ছাড়ের জন্য উদ্যোক্তাকে লিয়েন ব্যাংকের মাধ্যমে ইইএফ ডিভিশনে আবেদন করতে হয়। মঞ্জুরীকৃত ইইএফ সহায়তা ছাড়ের পূর্বে উদ্যোক্তার অংশের (৫১%) বিনিয়োগ সম্পন্ন করার পর কোম্পানি কর্তৃক লিয়েন ব্যাংক বরাবর দালিলিক প্রমাণাদি দাখিল করে। লিয়েন ব্যাংক দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি যাচাইপূর্বক কোম্পানির নামে জমির রেজিস্ট্রেশন, নামজারী ও খাজনা প্রদানের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ইইএফ উইং, আইসিবি বরাবর অর্থ ছাড়ের সুপারিশ করে।

নমিনি পরিচালক:
সমমুলধন সহায়তা ভোগকালীন সময়ে কোম্পানির পর্ষদ/ শেয়ারহোল্ডারদের সভায় ইইএফ উইং, আইসিবির পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য লিয়েন ব্যাংক থেকে যথোপযুক্ত কর্মকর্তাকে মনোনয়ন প্রদান করতে হবে।

উদ্যোক্তার বিনিয়োগ যাচাই এর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিবির সাথে পরিদর্শনে অংশগ্রহণ
প্রকল্পভূমির কোম্পানি নামে প্রদানের পর আইনগত মতামত প্রাপ্তির পর ইইএফ ইউনিট (বাংলাদেশ ব্যাংক), ইইএফ উইং (আইসিবি)এবংলিয়েন ব্যাংক এর মনোনীত প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত ত্রি-পক্ষীয় পরিদর্শন দল কর্তৃক প্রকল্পস্থল সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রকল্পের দখলীস্বত্বওবাস্তবায়ন অগ্রগতি যাচাই, প্রকল্পভূমির মূল দলিল/সার্টিফাইড কপি, নামজারীর কাগজপত্র, পর্চা, ডিসিআর, খাজনার রশিদ ইত্যাদির সঠিকতা যাচাই এর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার এর অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গমনপূর্বক উক্ত অফিসসমূহে সংরক্ষিতবালাম বহি,রেকর্ড বহিসহ যাবতীয় রেজিস্ট্রার/প্রামাণিক দলিলাদির সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়ে দেখা হয়।

ইইএফ এর অর্থ উদ্যোক্তাদের প্রদান
প্রকল্পের বিনিয়োগ যাচাইয়ের পর আইসিবি কর্তৃক নিরীক্ষা করে প্রকল্পে অর্থ ছাড় করার লক্ষ্যে লিয়েন ব্যাংক এর নামে চেক ইস্যু করা হয়। উদ্যোক্তা লিয়েন ব্যাংকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করে ইইএফ সহায়তার অর্থ সংগ্রহ করেন।

ব্যাক সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা সংরক্ষণ:
কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক কর্তৃক ইইএফ উইং, আইসিবি এর নির্ধারিত ফরম্যাট অনুযায়ী শেয়ার বাই-ব্যাক সংক্রান্ত অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে হবে যা লিয়েন ব্যাংক সংরক্ষণ করবে ও ১ (এক) কপি ইইএফ উইং, আইসিবিতে দাখিল করবে।

উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন আবেদন যাচাই করে আইসিবিতে সুপারিশ প্রেরণ
উদ্যোক্তাগণ ইক্যুইটি বিনিয়োগ করার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনরূপ অসুবিধা বা সমস্যার সম্মুখীন হলে উক্ত সময়সীমার মধ্যে উদ্যোক্তাগণকে তা মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইইএফ উইং, আইসিবি-কে অবহিত করেন।

লিয়েন ব্যাংক সমূহের তালিকা:

লিয়েন ব্যাংকের কাজ পর্যালোচনা:

লিয়েন ব্যাংক থাকার অসুবিধা:
ইইএফ সহায়তা প্রদানে সুবিধা এবং সর্বজণের নিকট সহজলভ্য করার জন্য লিয়েন ব্যাংক কে ইইএফ সহায়তা প্রদানের পদ্ধতির অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ লিয়েন ব্যাংক তাদের দায়িত্ব পালনে যথাযথ ভুমিকা পালন করছে না। প্রধানত লিয়েন ব্যাংকের কারণেই প্রকল্প মঞ্জুরী ও অর্থ বিতরণে দীর্ঘ সময় লাগে।
বর্তমান ব্যবস্থায় পাওনা আদায়ে লিয়েন ব্যাংকের তেমন কোন উদ্যোগ এবং প্রণোদনা নেই।
অনেক লিয়েন ব্যাংকের প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো এবং শাখা নেটওয়ার্ক নেই,যা ইইএফ সহায়তার ব্যবস্থাপনাকে ব্যাহত করছে।
বর্তমানে ইইএফ এর সাথে জড়িত লিয়েন ব্যাংকে সমূহের মধ্যে অধিকাংশের কার্যক্রম সন্তোষজনক ও মানসম্মত নয়, বরং দ্রুত ও উন্নত গ্রাহক সেবা প্রদানের পরিপন্হি।
উদ্যোক্তা কর্তৃক দাখলিকৃত প্রকল্পর মূল্যায়ন, লিয়েন ব্যাংকের মূল্যায়ন এবং আইসিবি’র ইইএফ ডিভিশন কর্তৃক প্রণীত পূণঃমূল্যায়ন- এই ০৩ (তিন) টি আর্থিক বিশ্লেষণে প্রকল্প ব্যয়, উদ্যোক্তার অংশ ও ইইএফ সহায়তার পরিমাণে ব্যাপক তারতম্য হয়। ফলে উদ্যোক্তাগণ উচ্চ প্রত্যাশামূলক বিভ্রান্তিতে পড়েন এবং ইইএফ ডিভিশন, আইসিবি-কে দায়ী করেন।
লিয়েন ব্যাংক কর্তৃক প্রকল্পসমূহ মনিটরিং এর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবক্ষেত্রে প্রকল্প সমূহ সুষ্ঠু মনিটরিং হচ্ছে না। প্রকল্পে নমিনি পরিচালক মনোনয়ন থাকলেও তারা সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প মনিটরিং এ ব্যর্থ হচ্ছেন।
অর্থ আদায় সংক্রান্ত কাজে লিয়েন ব্যাংকের সহযোগিতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। লিয়েন ব্যাংক এর নিকট কোন দায় দায়িত্ব না থাকায় এ বিষয়ে লিয়েন ব্যাংকের যথেষ্ট অনীহা রয়েছে।

লিয়েন ব্যাংক ব্যতিরেখে আইসিবি কর্তৃক সরাসরি ইইএফ সহায়তা প্রদান
বর্তমান পরিস্থিতিতে লিয়েন ব্যাংক থাকার নানাবিধ অসুবিধার কারণে লিয়েন ব্যাংক বাদ দিয়ে ইইএফ সহায়তা প্রদানে আইসিবি সরাসরি ভূমিকা পালন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আইসিবি প্রকল্প মূল্যায়ন ও মঞ্জুরী বোর্ড এ স্মারক উপস্থাপন, বিনিয়োগ চুক্তিপত্রসহ আনুষঙ্গিক দলিলায়ন সম্পাদন এবং মঞ্জুরীপত্রের শর্তানুযায়ী বিনিয়োগ যাচাই করে সরাসরি কোম্পানির অনুকুলে কিস্তির অর্থ ছাড়ের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। উদ্যোক্তাদের সেবা প্রাপ্তি ত্বরান্বিত হবে।